লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ঢাকায় ‘দ্য গ্রেট টুনা গালা’, টেকসই মৎস্য ও পর্যটন নিয়ে মালদ্বীপ ঢাকায়

প্রকাশিত: 07 অক্টোবর 2026

8 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ঢাকায় টেকসই মৎস্য আহরণ, মালদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পর্যটনশিল্প তুলে ধরতে ‘দ্য গ্রেট টুনা গালা—ফ্লেভারস ফ্রম দ্য সানি সাইড’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশে মালদ্বীপের হাইকমিশন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পর্যটন ও মৎস্যশিল্পের অংশীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ২৫০ জন অতিথি অংশ নেন।

টেকসই মৎস্য আহরণে গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ মালদ্বীপের সঙ্গে সমুদ্রের গভীর সম্পর্ক এবং দেশটির অর্থনীতি, জনজীবন ও সংস্কৃতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মালদ্বীপের অর্থনীতি ও দ্বীপভিত্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সঙ্গে সমুদ্র ও মৎস্যসম্পদ নিবিড়ভাবে যুক্ত। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ‘পোল অ্যান্ড লাইন’ পদ্ধতিতে টুনা মাছ ধরা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি মাছ আলাদাভাবে ধরা হয়, ফলে সামুদ্রিক সম্পদের ওপর চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

মালদ্বীপে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চালু থাকা এই পদ্ধতি দেশটির দায়িত্বশীল ও টেকসই মৎস্য আহরণের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন হাইকমিশনার।

তিনি বাংলাদেশি বাজারে মালদ্বীপের টুনা ও অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা জানান। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় পর্যটন, বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মৎস্য ও পর্যটনে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে মৎস্য ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন উন্নয়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। পর্যটন প্রচারে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং নতুন ব্যবসায়িক ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, বাণিজ্য ও মৎস্যসম্পদভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

গালা অনুষ্ঠানে টুনার বিশেষ আয়োজন
‘দ্য গ্রেট টুনা গালা’ অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের মৎস্য খাতের প্রধান পণ্য টুনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অতিথিদের মালদ্বীপের বিভিন্ন মৎস্যজাত পণ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

মালদ্বীপের সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতি, দ্বীপবাসীর জীবনযাপন এবং স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে টুনার সম্পর্কও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। দেশটির রন্ধন ঐতিহ্যে টুনার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে অতিথিদের জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মালদ্বীপের খ্যাতনামা শেফ মাহা নাসিরের লাইভ কুকিং প্রদর্শনী। বিশেষভাবে ঢাকায় আসা এই শেফ মালদ্বীপের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত করেন। টুনা ও অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্য ব্যবহার করে মালদ্বীপের খাবারের বৈচিত্র্য ও ব্যবহারিক সম্ভাবনা তিনি তুলে ধরেন।

অতিথিরা এ সময় মালদ্বীপের স্বতন্ত্র খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি দেশটির মৎস্যসম্পদ, রন্ধন ঐতিহ্য, দ্বীপভিত্তিক জনগোষ্ঠী এবং জীবনযাত্রার পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

বাংলাদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। দেশটির নীল সমুদ্র, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দ্বীপভিত্তিক জীবন, আতিথেয়তা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে মালদ্বীপের মৎস্যজাত পণ্যের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজে বের করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

একই সঙ্গে বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে মালদ্বীপকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। হাইকমিশনের মতে, বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপে পর্যটন সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনা
মালদ্বীপের হাইকমিশন জানিয়েছে, ‘দ্য গ্রেট টুনা গালা’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়েছে।

মৎস্য, পর্যটন ও বাণিজ্যের পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে এপিটিচিয়া হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড, ভারু বাই অ্যাটমস্ফিয়ার, মালদিভিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশারিজ কোম্পানি লিমিটেড, মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স, শেরাটন ঢাকা, দ্য ওয়ে ঢাকা এবং ইনজা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman