দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের সময় ইরানে হামলা চালানো মার্কিন বি–২ স্টেলথ বোমারু বিমানের রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত করার দাবি করেছে একটি চীনা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এই দাবি নতুন করে বৈশ্বিক সামরিক গোয়েন্দা প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
চীনের হাংঝৌ ভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি জিংগান টেকনোলজি জানিয়েছে, তাদের তৈরি “জিংকি” যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ১ মার্চের হামলার পর মার্কিন বিমান যোগাযোগ সিগন্যাল শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তারা হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির ধাপগুলো বিশ্লেষণ করেছিল।
কোম্পানির মতে, এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্যাটেলাইট ছবি, বিমান চলাচলের তথ্য, সামরিক ঘাঁটির কার্যক্রম এবং বিমানবাহী রণতরীর গতিবিধি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য যুদ্ধ প্রস্তুতির ধরণ শনাক্ত করে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ শুরু করেছিল, যা ইরাক যুদ্ধের সময়কার প্রস্তুতিকেও ছাড়িয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টেলথ প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য রাডার ও নজরদারি এড়িয়ে চলা হলেও আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ওপেন সোর্স ডেটা, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট এবং এআই বিশ্লেষণ নতুন ধরনের গোয়েন্দা সক্ষমতা তৈরি করেছে। ফলে সামরিক গোপনীয়তা আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখনো চীনা কোম্পানিটির দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দাবি প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রচারণা হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
চলমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা দেখাচ্ছে, আধুনিক সংঘাতে শুধু অস্ত্র নয়, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ প্রযুক্তিও এখন কৌশলগত শক্তির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
