দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি হলফনামা ও সম্পদের হিসাব নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। হলফনামায় উল্লেখিত মোট সম্পত্তি প্রায় ৩২ লাখ টাকা এবং বার্ষিক আয় নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি এনসিপির।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার এক ব্যাখ্যামূলক বার্তা দিয়েছেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব তামীম আহমেদ।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নাহিদ ইসলামের মোট আয় ছিল ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা। সাত মাস উপদেষ্টা পদে থেকে গড়ে মাসিক প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বেতন-ভাতা হিসেবে তিনি এই অর্থ পান। উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে মাসিক এক লাখ টাকা সম্মানিতে কাজ শুরু করেন।
এই হিসাবে গত অর্থবছরে উপদেষ্টা পদ এবং পরামর্শক পেশা মিলিয়ে নাহিদ ইসলামের মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। তামীম আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ আয়বর্ষে তিনি এই আয়ের বিপরীতে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। এসব তথ্য তার আয়কর রিটার্নে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সেই অনুযায়ীই নির্বাচনি হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের পেশা নিয়ে ছড়ানো তথ্যকে অপতথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আয়কর রিটার্ন কিংবা নির্বাচনি হলফনামার কোথাও তার পেশা শিক্ষকতা দেখানো হয়নি। হলফনামার ৪ নম্বর কলামে বর্তমান পেশা হিসেবে ‘পরামর্শক’ এবং পূর্বতন পেশা হিসেবে ‘বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা’ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
ব্যাংক হিসাব প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের সোনালী ব্যাংকের একমাত্র অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ১০ হাজার ৬৯৮ টাকা। বর্তমানে সেই একই অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা। এই একটি অ্যাকাউন্ট ছাড়াও নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য গত ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা একটি অ্যাকাউন্ট ছাড়া তার আর কোনো ব্যাংক হিসাব নেই বলেও জানান তিনি।
এনসিপির দাবি, যাচাইযোগ্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করছে।
