দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
কয়েক দিনের টানা শীত ও ঠান্ডায় কুড়িগ্রামে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে কাঁপছে মানুষ। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। কুড়িগ্রাম পৌরসভার ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ মিস্ত্রি (৬০) ও নরসুন্দর নির্মল (৩৫) বলেন, প্রচণ্ড শীতে কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দিনমজুরদের আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দিনমজুর আলমগীর হোসেন (২৮) বলেন, সকালে কাজে যেতে দেরি হয়। ঠান্ডায় হাত-পা শক্ত হয়ে যায়। তবুও কাজ না করলে চলবে না, পেট চালানোর তাগিদ আছে।
নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা কাছুয়া মিয়া (৫০) জানান, এবছর শীত বেশি। ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এখনো কোনো শীতবস্ত্র পাইনি।
এদিকে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, এখনো শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বড় আকারে বাড়েনি। তবে প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোগীরা আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, শুক্রবার সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
