দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনিয়া। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুটি গোল করে দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গ্যালারির একটি আবেগঘন দৃশ্যও সমর্থকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২৩ ও ৩৬ মিনিটে গোল করে ব্রাজিলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান কুনিয়া। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল তার প্রথম গোল, আর এক ম্যাচেই তিনি করেন জোড়া গোলের কীর্তি।
ছেলের এমন সাফল্য গ্যালারিতে বসে প্রত্যক্ষ করছিলেন তার মা লুজিয়ানা কুনিয়া। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। ছেলের গোলের পর আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
কুনিয়ার এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা ও হতাশার গল্প। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের পরিকল্পনায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন। ফলে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তখনই ভেঙে যায়।
চার বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও সুযোগ পান এই ফরোয়ার্ড। তবে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে তাকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। সেই ম্যাচে কোচ কার্লো আনচেলত্তি অন্য একজন ফরোয়ার্ডকে সুযোগ দেন।
হাইতির বিপক্ষে সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন কুনিয়া। আক্রমণভাগে তার গতিময়তা, সঠিক অবস্থান নির্বাচন এবং নিখুঁত ফিনিশিং ব্রাজিলের আক্রমণকে নতুন মাত্রা দেয়। ম্যাচ শেষে ব্রাজিল সমর্থকদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে কুনিয়ার প্রত্যাবর্তনকে ‘অধ্যবসায়ের জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রথম গোলের অপেক্ষা সবসময়ই একজন খেলোয়াড়ের জন্য বিশেষ অনুভূতির। আর সেই গোল যখন জোড়া গোলে রূপ নেয়, তখন তা স্মরণীয় হয়ে ওঠে। কুনিয়ার ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে।
মাঠে ছেলের সাফল্য আর গ্যালারিতে মায়ের অশ্রুসিক্ত আনন্দ মিলিয়ে হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের এই ম্যাচ বিশ্বকাপের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
