দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি মাঠে গতি বাড়ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচার প্রচারণা এখন তুঙ্গে। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনি আচরণ বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোটার স্লিপ এবং প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের বিধান সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত বিধিমালা কার্যকর হলে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, দলের নাম এবং প্রতীক যুক্ত করার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছুটা নমনীয়তা আনা হবে।
বর্তমানে আচরণ বিধিমালায় ভোটার স্লিপে কেবল ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখ করার সুযোগ রয়েছে। প্রার্থীর নাম, প্রতীক বা দলের নাম যুক্ত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির মুখে এই বিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয় ইসি। কমিশন জানিয়েছে, সংশোধনের পর ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নাম যুক্ত করলেও তা আচরণ বিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে না।
‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ এর ৮ ধারায় ভোটার স্লিপ ব্যবহারের বিধিনিষেধ উল্লেখ করে বলা হয়েছে- (ক) ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক ভোটার স্লিপ প্রদান করিতে পারিবেন, তবে কোনো ভোটকেন্দ্রের ৪০০ (চারশত) গজের মধ্যে উক্ত ভোটার স্লিপ বিতরণ করিতে পারিবেন না।
(খ) দফা (ক) তে উল্লিখিত ভোটার স্লিপ ১২ (বারো) সেন্টিমিটার × ৮ (আট) সেন্টিমিটার আকারের অধিক হইতে পারিবে না, এবং উহাতে প্রার্থীর নাম বা ছবি, সংশ্লিষ্ট পদের নাম, প্রতীক বা ভোট প্রার্থনা করিয়া কোনো কথা বা এইরূপ ইঙ্গিতবহ কিছু উল্লেখ করিতে পারিবেন না।
(গ) মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, সংখ্যা ও তারিখবিহীন কোনো ভোটার স্লিপ মুদ্রণ করিতে পারিবে না।
আচরণ বিধিমালা সংশোধন হলে সেখানে উল্লেখ থাকবে- প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নামসহ ভোটার স্লিপ তৈরি করে ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক ভোটার স্লিপ ভোটারদের প্রদান করতে পারবেন প্রার্থীরা।
প্রচারণায় মাইক ব্যবহার বিষয়ে বলা হয়েছে- (১) কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোনো ব্যক্তি কোনো নির্বাচনি এলাকায় একইসঙ্গে ৩ (তিন) টির অধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করিতে পারিবেন না।
(২) কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারণার সময়কালে কোনো নির্বাচনি এলাকায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যবিধ যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২ (দুই) ঘটিকা হইতে রাত ৮ (আট) ঘটিকা সীমাবদ্ধ রাখিবেন।
(৩) নির্বাচনি প্রচারকার্যে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মানমাত্রা ৬০ (ষাট) ডেসিবেলের অধিক হইতে পারিবে না।
আচরণ বিধিমালা সংশোধন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীরা মাইক ব্যবহার করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ভোটার স্লিপ সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের কাজ চলছে এবং সংশোধিত খসড়া ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আচরণ বিধিমালায় দুটি বিষয়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে—ভোটার স্লিপে তথ্য যুক্ত করার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের শর্তে শিথিলতা।
বর্তমান বিধিমালায় এক এলাকায় একসঙ্গে তিনটির বেশি মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে প্রচারণা সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। সংশোধনের পর প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে ইসি।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক যুক্ত করার দাবি তোলে। দলটির নেতারা বলেন, এতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্র খুঁজে পাওয়া সহজ হবে এবং ভোটে অংশগ্রহণ বাড়বে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে নির্বাচনি মাঠে প্রচারণা আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
