দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে ভারতীয় বাহিনীর এক ঘোষণাহীন সমন্বিত সামরিক মহড়া নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থল ও আকাশভিত্তিক এই মহড়ায় একাধিক কৌশলগত যুদ্ধ অনুশীলন চালানো হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রয়টার্স এবং আল জাজিরা এর বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই মহড়ার অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড ম্যানুভার অপারেশন, ক্লোজ ল্যান্ড ব্যাটল এবং নিম্ন উচ্চতায় প্রবেশ কৌশলসহ আধুনিক যুদ্ধ প্রস্তুতির বিভিন্ন ধাপ অনুশীলন করা হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অনুশীলন সাধারণত উচ্চমাত্রার সংঘাত পরিস্থিতির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষ করে নিম্ন উচ্চতায় অনুপ্রবেশ এবং টেরেইন মাস্কিং কৌশল ব্যবহারের অনুশীলন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দ্রুত আক্রমণ বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। এতে করে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে AP এবং আনাদুলু এজেন্সী এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক আগেই সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে এমন মহড়া দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কিংবা সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। BBC নিউজ এর তথ্য অনুযায়ী, অতীতে সীমান্তে ছোটখাটো সংঘর্ষও দ্রুত বড় আকার ধারণ করেছে, যা দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সামরিক তৎপরতা শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এই অঞ্চলগুলোর ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক এবং জ্বালানি নির্ভরতা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
সামরিক মহড়া অস্বাভাবিক নয়, তবে সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় ঘোষণাহীনভাবে এমন মহড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভুল সংকেত বা ভুল সিদ্ধান্ত দ্রুত বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিকে গুরুতরভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
সূত্র: Reuters, Al Jazeera
