দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে শুরু হয়েছে হাম রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি। সোমবার সকাল থেকে সারাদেশে একযোগে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করেছে সরকার। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিন্দা পার্কের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সময় দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দেশের স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই এর অধীনে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষার আওতায় আনা যায়।
ইপিআই এর সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল থেকে Dhaka North City Corporation, Dhaka South City Corporation, Barishal City Corporation এবং Mymensingh City Corporation এলাকায় দ্বিতীয় ধাপ চালু করা হয়। সর্বশেষ ধাপে এখন দেশব্যাপী এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিটি করপোরেশন এলাকায় এই কর্মসূচি ২০ মে পর্যন্ত চলবে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ১২ মে পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে অভিভাবকদের জন্য। যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রথম ডোজ নেওয়ার পর চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে দ্বিতীয়বার টিকা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এবং UNICEF এর তথ্য অনুযায়ী, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। সময়মতো টিকা গ্রহণই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি বরাবরই সফল হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হাম সংক্রমণ বাড়ায় জরুরি ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এই উদ্যোগ শিশুমৃত্যু কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
