লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক হত্যাকাণ্ডে ভারতের ছায়া, মমতার বিস্ফোরক মন্তব্য ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

প্রকাশিত: 06 জুন 2026

2 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশের তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এর সাম্প্রতিক বক্তব্য। কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করলেও দাবি করেন, বাংলাদেশে আলোড়ন তোলা একটি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানেন। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রকাশ করলে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত প্রকাশ করছেন না।

মমতার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, অন্য দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নির্ধারণ করে না। তবে কোনো রাষ্ট্র যদি তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য শেয়ার করে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো গুরুত্বসহকারে কাজ করছে।

এদিকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং বা ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিকট অতীতের বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কানাডায় হারদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে গুরপাতওয়ান্ত সিং পান্নুন কে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে। তবে ভারত সরকার এসব অভিযোগকে বারবার অস্বীকার করেছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও কানাডার মধ্যে কয়েক বছরের কূটনৈতিক উত্তেজনার পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। ফলে তার মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

স্মরণযোগ্য যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকার বা কোনো ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণ বা নিশ্চিত করেনি। ফলে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

 

সূত্র: আমার দেশ

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman