দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৬ জুন থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলতি মাসের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে বাংলাদেশ পুলিশ-এর মহাপরিদর্শক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে। পরে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকেও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
পটভূমিতে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে তৎকালীন সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। পরবর্তীতে সরকার পতন ও পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে অস্থিরতা দেখা দিলে সেনাবাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও প্রদান করে।
এর আগে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একাধিকবার জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের কারণে সদস্যদের ক্লান্তি ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়।
বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, মাদকবিরোধী অভিযান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই, তাদের জামিনে বাধা না দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব থেকে সরে আসা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের সক্ষমতা পুনর্গঠনের ওপর।
