দ্য সিভিলিয়ানস । বিজ্ঞান ডেস্ক ।
ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে অবস্থিত হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরি গত রোববার ভয়ঙ্কর অগ্ন্যুৎপাত করে। প্রায় ১২ হাজার বছর ধরে সুপ্ত থাকা এই শিল্ড আগ্নেয়গিরি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছাইয়ের বিশাল মেঘ সৃষ্টি করে, যা লোহিত সাগর পেরিয়ে ইয়েমেন, ওমান, ভারতের পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর পাকিস্তান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্রান্সের টউলুস ভলক্যানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টার (VAAC) জানিয়েছে, ছাইয়ের মেঘ আকাশে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠেছিল। কাছাকাছি আফডেরা গ্রাম ছাইয়ে ঢেকে গেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন:
– এই অঞ্চলের আগ্নেয়গিরি নিয়ে গবেষণা খুবই কম।
– স্মিথসোনিয়ান গ্লোবাল ভলক্যানিজম প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, হলোসিন যুগে (গত ১২ হাজার বছরে) হায়লি গুব্বিতে কোনো পরিচিত অগ্ন্যুৎপাতের রেকর্ড নেই।
– ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির ভূবিজ্ঞানী জুলিয়েট বিগস: “যদি সত্যিই ১২ হাজার বছর পর এটি প্রথম অগ্ন্যুৎপাত হয়ে থাকে, তাহলে আমি খুবই অবাক হব। তবে স্যাটেলাইট ডেটা বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এখানে লাভা বের হয়েছে।”
অগ্ন্যুৎপাতের পূর্বলক্ষণ ধরা পড়েছিল, গত জুলাইয়ে কাছের এরতা আলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর হায়লি গুব্বির নিচে ভূমিকম্প ও ম্যাগমা সঞ্চালন শুরু হয়। রোববারের আগে চূড়ায় সাদা মেঘ ও সামান্য ভূমি উত্থানও রেকর্ড করা হয়েছিল।
ইথিওপিয়ায় অবস্থানরত সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটির ভূবিজ্ঞানী ডেরেক কেইর সোমবার ছাইয়ের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এই নমুনা দিয়ে ম্যাগমার ধরন ও আগ্নেয়গিরিটি কতদিন সত্যিই সুপ্ত ছিল, তা যাচাই করা হবে।
হায়লি গুব্বি পূর্ব আফ্রিকার গ্রেট রিফ্ট ভ্যালিতে অবস্থিত, যেখানে আফ্রিকান ও আরব টেকটোনিক প্লেট বছরে ১ সেন্টিমিটারেরও কম হারে দূরে সরছে। এই প্রক্রিয়া একদিন আফ্রিকা মহাদেশকে দুভাগ করে ফেলবে।
