দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জ্বালানি তেলের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা গেছে, কৃষকরা তেলের ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে অপেক্ষা করছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছেন না, ফলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শেখ ফিলিং স্টেশনের সামনে সরেজমিনে দেখা যায়, সেচ মৌসুমের চাপ বাড়ায় কৃষকদের ভিড় দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অধিকাংশ কৃষক ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় জমিতে সেচ দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কৃষক মো. ইউনুস আলি জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেল ছাড়া সেচের বিকল্প নেই। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদা অনুযায়ী তেল মিলছে না। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষক মো. হোসেন আলি মন্ডল বলেন, দীর্ঘ লাইনের পাশাপাশি তেল নিতে কৃষি অফিসারের স্বাক্ষর লাগায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। জমিতে বীজ বোনা হলেও সময়মতো সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আরেক কৃষক মো. জিলাল শেখ অভিযোগ করেন, কাজকর্ম ফেলে গাড়ি ভাড়া করে তেল নিতে এলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কৃষকদের দুর্দশা দেখার কেউ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, তারাও নিয়মিত সরবরাহ না পাওয়ায় সংকটে রয়েছেন। সীমিত পরিমাণ তেল আসায় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তেল বিতরণ করা হচ্ছে বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেচ মৌসুমে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি।
