দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের চিকিৎসায় এক লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের তারকা হামজা চৌধুরী। লন্ডনে আয়োজিত একটি দাতব্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত অর্থ গুরুতর অসুস্থ ও আহত শিশুদের চিকিৎসা এবং জরুরি প্রয়োজনে গাজার বাইরে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যয় করা হবে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হামজা নিজেই এ তথ্য জানান। তিনি অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ সফল করতে অংশ নেওয়া, অনুদান দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুরো আয়োজন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বিশেষ ধন্যবাদ জানান ক্রীড়াবিদদের কল্যাণে কাজ করা সংস্থা নুজুম স্পোর্টসকে।
হামজা জানান, সংগৃহীত অর্থ গাজার শিশুদের সহায়তায় কাজ করা দাতব্য সংস্থা চিলড্রেন নট নাম্বারসের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। বিশেষ করে যেসব শিশুর বেঁচে থাকার জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এবং গাজার ভেতরে সেই চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে নেওয়ার উদ্যোগ
গাজার শিশুদের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে হামজা বলেন, অনেক শিশুর জন্য উন্নত চিকিৎসা পেতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়াই বেঁচে থাকার একমাত্র আশা। তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সংগৃহীত অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চিলড্রেন নট নাম্বারস গুরুতর অসুস্থ ও আহত শিশুদের চিকিৎসাসহায়তা, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে স্থানান্তরের উদ্যোগে কাজ করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক শিশুর প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার, বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ নয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মূল্যায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নিরাপদ যাতায়াত এবং গ্রহণকারী দেশের সম্মতি প্রয়োজন হয়। ফলে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
অল্প সময়ে বড় উদ্যোগ
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে গত ২৫ অক্টোবর হামজা চৌধুরী ও নুজুম স্পোর্টসের সহযোগিতায় গাজার শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে ফুটবলপ্রেমী, সমর্থক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে খেলাধুলার বিভিন্ন স্মারক নিলামে তোলার পাশাপাশি অনুদান সংগ্রহ করা হয়।
হামজা জানান, অল্প সময়ের মধ্যে এত অর্থ সংগ্রহ করতে পেরে তিনি কৃতজ্ঞ। তবে গাজার মানুষের দুর্ভোগের তুলনায় এই সহায়তাকে তিনি সামান্য অবদান হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে। ছোট কিংবা বড়, প্রতিটি উদ্যোগই মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
বার্তার শেষাংশে হামজা ফিলিস্তিনের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি তাঁদের ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন এবং ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন।
ফুটবল মাঠের বাইরেও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা হামজার সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে যুদ্ধের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতে এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্রঃ হামজা চৌধুরীর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতি
