লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ঠাকুরগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখায় অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে ঘিরে মানবিক সংকট

প্রকাশিত: 08 জুন 2026

6 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও পুরুষসহ ১১ জনকে ঘিরে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় তাদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করে। ফলে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। একই সময়ে বিএসএফও তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যেতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তারা দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় আটকা পড়েন।

আটকে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এছাড়া একটি শিশু শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার। খোলা আকাশের নিচে অবস্থানরত এসব মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট দেখা দিয়েছে।

সীমান্তে অবস্থানরত ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার জানায়, সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করার পর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় কয়েকদিন ঘোরানোর পর শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সীমান্তে নিয়ে আসে। বর্তমানে সে দ্রুত নিজ দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রত্যাশা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মানবিক বিবেচনায় তারা কিছু শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বিশেষ করে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীর শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারী ও শিশুদের এভাবে অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলে রাখা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তারা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, অবৈধ পুশইনের ঘটনায় বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে যথাযথ প্রমাণ ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে বাংলাদেশ তা গ্রহণ করবে। তবে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন মেনে নেওয়া হবে না।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১১ জনের অবস্থানের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমাধান পাওয়া যায়নি।

 

সূত্র: আমার দেশ

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman