লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

‘হাসিনাকে গ্রহণ করা ছাড়া উপায় ছিল না’, বাংলাদেশকে আসলে কী বার্তা দিচ্ছে ভারত?

প্রকাশিত: 04 অক্টোবর 2026

25 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । মতামত । শাহরিয়ার ফিরোজ ।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য অত্যন্ত সতর্ক ও হিসাব-নিকাশ করা এক কূটনৈতিক বার্তা দেয়। ভারত ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে চাইছে, আবার একই সাথে তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের দাবিকেও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না।

হাসিনাকে গ্রহণ করা ছাড়া ভারতের ‘উপায় ছিল না’ বলে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিছক কোনো ‘অনিবার্য মানবিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা নয়; বরং আমার মতে, এটি ক্ষমতাচ্যুত এই নেত্রীর প্রতি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। ভারত তাকে ডেকে আনেনি কিংবা তার আগমনের বিষয়টি আগে থেকে জানত না, এ কথার ওপর জোর দিয়ে হাইকমিশনার ত্রিবেদী মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের দায় থেকে নয়াদিল্লিকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন, যদিও সম্পর্কের এই টানাপোড়েন এখনও চলছে।

তবে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই ব্যাখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। শেখ হাসিনার বিমান অবতরণ করতে দেওয়া এক বিষয়, আর দীর্ঘ সময় ধরে তাকে ভারতে থাকতে দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বাংলাদেশের কাছে এই দীর্ঘকালীন অবস্থান এখন পারস্পরিক বিশ্বাস, দায়বদ্ধতা এবং দেশের বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মানের এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই বিষয়টি আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে তিনি যে উল্লেখ করেছেন, তার দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। কূটনৈতিকভাবে এটি ঢাকার অনুরোধ সরাসরি নাকচ করা এড়িয়ে যায়। আর রাজনৈতিকভাবে এটি প্রত্যর্পণের কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না দিয়েই ভারতকে কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে রাখে। তবে এই আইনি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে কতটা সন্তুষ্ট করতে পারবে, তা নির্ভর করবে এর ফলাফলের ওপর, কেবল ব্যাখ্যার ওপর নয়।

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, ভারত কোনো কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে কৌশলগত সতর্কতার ওপরই বেশি নজর দিচ্ছে। তারা শেখ হাসিনার বিষয়ে নিজেদের সব পথ খোলা রাখছে, আবার একই সাথে বাংলাদেশের সঙ্গে বৃহত্তর সম্পর্ক বজায় রাখার কথাও বলছে।

ন্যায়বিচার ও সার্বভৌম সমতার দাবির মুখে ভারতের এই চরম পরস্পরবিরোধী অবস্থানকে বাংলাদেশ কীভাবে মূল্যায়ন করবে?

রাজনৈতিক অবিশ্বাস যে ক্রমেই গভীর হচ্ছে, তা স্পষ্ট। তাহলে এরপর কী হতে চলেছে?

 

লেখক ‘দ্য ডেইলি অবজারভার’-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক

নোটঃ লেখাটি লেখকের ইংরেজি লেখা থেকে অনুবাদ করা

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman