দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে থাকা প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ঘাঁটিকে ঘিরে কিছু হুমকির তথ্য পাওয়ার পরই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে হুমকির ধরন বা এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং সেই কারণে বিমানগুলো যুক্তরাজ্যে রেখে দেওয়ার কোনো কারণ দেখেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানগুলো খুব দূরে সরানো হয়নি এবং যাঁরা হুমকি তৈরি করেছেন তাঁদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ধারণা রাখে। তবে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা দেশের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও বলেছেন, অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিদ্ধান্তটির সঙ্গে ঘাঁটির সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র স্থাপনে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সামরিক সরঞ্জাম ও সদস্যদের পুনর্বিন্যাস স্বাভাবিক সামরিক কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছে সন্দেহজনক তিনটি যানবাহনের খবর পাওয়ার পর ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ অভিযান চালায়। পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা যানবাহনগুলো পরীক্ষা করে বিস্ফোরক জাতীয় কোনো তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণযন্ত্র পাননি, তবে পেট্রল উদ্ধার করা হয়। পরে পাঁচজনকেই পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে। ১ অক্টোবর লন্ডনে ২৭ বছর বয়সী দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাঁকেও জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে বিদেশি রাষ্ট্রের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই তদন্তের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে ব্রিটিশ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইরানের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে ইরান এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ তদন্তকারীরাও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি এবং সব সম্ভাবনা খোলা রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য আগে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। ফলে সেখান থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বিমানগুলো যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। মার্কিন বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য বিমান এখনো সক্রিয় রয়েছে। বি-১ বোমারু বিমান দীর্ঘপাল্লার হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটি থেকেও আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে দূরবর্তী অভিযানে অংশ নিতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে সরে যাওয়ায় ইউরোপ থেকে দ্রুত বোমারু অভিযান পরিচালনার সুবিধা কিছুটা কমবে।
এদিকে ব্রিটিশ সরকার আরএএফ ফেয়ারফোর্ডকে নিরাপদ বলে জানিয়েছে। ঘাঁটির আশপাশের সাম্প্রতিক ঘটনার তদন্ত অব্যাহত থাকলেও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক সহযোগিতায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় পরিবর্তন হবে কি না, সেটিও এখন নজরে রয়েছে।
#যুক্তরাষ্ট্র #যুক্তরাজ্য #ইরান #বোমারুবিমান #USMilitary #RAF_Fairford #MiddleEast, যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বি-১ বোমারু বিমান, যুক্তরাজ্য বিমানঘাঁটি, ইরান, নিরাপত্তা হুমকি, সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত
