লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামাতে ইসলামীর ব্যাপারে ইসলামী দলগুলোর বক্তব্য প্রায় একই

প্রকাশিত: 08 ফেব্রুয়ারী 2026

41 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমায়েতে ইসলামীর ব্যাপারে বাংলাদেশের ইসলামপন্থি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য প্রায় একই। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান ইসলামপন্থি ভোটব্যাংকে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

নির্বাচনের আগে এই দুই প্রভাবশালী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে জামায়াতবিরোধী অবস্থান নিয়ে দলটিকে বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কওমি ঘরানার ভোটারদের ওপর এর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে, যা জামায়াতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরুতে ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেঙে পড়ে। জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক চালিয়ে একটি অভিন্ন ভোটকৌশল গড়ে তুলতে চেয়েছিল। এমনকি ইসলামপন্থিদের ভোট ‘এক বাক্সে’ নেওয়ার নীতিতেও প্রাথমিক সমঝোতা হয়। তবে আসন বণ্টন ও আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে গত ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট দুর্বল হয়ে পড়ে।

এরই মধ্যে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক অনুষ্ঠানে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করে বলেন, সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দেওয়া মুসলমানদের জন্য জায়েজ নয়। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একই বক্তব্যে তিনি চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থনের কথাও জানান।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম প্রকাশ্যে জামায়াতকে ইসলামী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। ঝালকাঠিতে এক জনসভায় তিনি বলেন, জামায়াতের ইশতেহারে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতিফলন নেই। তাই জামায়াতকে ইসলামী দল বলা বিভ্রান্তিকর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বন্দ্বের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের আদর্শিক ও আকিদাগত পার্থক্য। জামায়াতে ইসলামী মওদুদীবাদী রাজনৈতিক চিন্তার অনুসারী হলেও হেফাজত ও চরমোনাইপন্থিরা দেওবন্দি ও সুফিবাদী ধারার প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে নেতৃত্ব, ইসলামি ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব নতুন নয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম বলেন, হেফাজত ও ইসলামী আন্দোলনের বক্তব্য নির্বাচনের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হেফাজতের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক যদি জামায়াত থেকে সরে যায়, তাহলে তা দলটির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে।

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি রাজনীতির এই প্রকাশ্য বিভাজন শুধু জোট রাজনীতির ব্যর্থতাই নয়, বরং ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman