দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের একটি প্রীতি ম্যাচে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনার পরও স্পেনকে বর্ণবাদী দেশ হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
মঙ্গলবার স্পেন ও মিশরের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচ চলাকালে বার্সেলোনার কর্নেল্লার আরসিডিই স্টেডিয়ামে দর্শকদের একটি অংশ “যে লাফাবে না সে মুসলিম” স্লোগান দেয়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল, যিনি নিজেও মুসলিম, এই স্লোগানকে “অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী আচরণ” বলে মন্তব্য করেন।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরবেলোয়া বলেন, “স্পেন বর্ণবাদী দেশ নয়। যদি তা হতো, তাহলে প্রতি সপ্তাহেই স্টেডিয়ামগুলোতে বড় সমস্যা দেখা দিত।” তবে তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেন, ফুটবল স্টেডিয়াম ও সমাজ থেকে সব ধরনের বর্ণবাদী আচরণ নির্মূল করা জরুরি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনের ফুটবলে বর্ণবাদ ইস্যু নতুন নয়। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একাধিকবার দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কিছু সমর্থক তার প্রতিকৃতি ঝুলিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে। পরে ২০২৫ সালে ভিনিসিয়ুসকে অপমানের ঘটনায় পাঁচজন দর্শককে ঘৃণাজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যা স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে নজিরবিহীন রায়।
বার্সেলোনা কোচ হানসি ফ্লিক ইয়ামালের বক্তব্যকে “সাহসী ও প্রয়োজনীয়” বলে প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে বলেন, এটি শুধু স্পেন নয়, বরং বৈশ্বিক সামাজিক সমস্যার অংশ।
কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করে বলেছেন, একটি ছোট গোষ্ঠীর আচরণ পুরো দেশের সহনশীলতার ভাবমূর্তিকে নষ্ট করতে পারে না।
