দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী আজ। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে দিনটি পালন করছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এ উপলক্ষে মন্দিরগুলোতে পূজা, গীতাপাঠ, ভজন-কীর্তন, আরতি ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পালিত হচ্ছে। ঢাকায় এদিন কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি রয়েছে এবং রাতের নিশীথ সময়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্মক্ষণ স্মরণ করে বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকাতেও ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক দিনের সাধারণ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। পুরাণের বর্ণনায়, অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান হিসেবে তাঁর জন্ম হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসে শ্রীকৃষ্ণ ন্যায়, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক।
জন্মাষ্টমীর মূল তাৎপর্যকে ভক্তরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, মানবকল্যাণ ও সত্যের পথে অগ্রসর হওয়ার বার্তা হিসেবে দেখেন। এ কারণে দিনটি শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভক্তি, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতার চর্চার সঙ্গেও যুক্ত।
রাজধানী ঢাকায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি বিকেলে বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা রয়েছে। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এলাকা থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। এ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে।
সনাতন ধর্মীয় সংগঠন ও বিভিন্ন মন্দিরে দিনব্যাপী পূজা, গীতাযজ্ঞ, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ভজন-কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভক্তরা অনেক জায়গায় উপবাস পালন করে রাতের বিশেষ পূজায় অংশ নেবেন।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘও জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কয়েক দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় পাঠ, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। তাঁরা দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতি ও শান্তির বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশে জন্মাষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ রাজধানীর ঐতিহাসিক শোভাযাত্রা। প্রতি বছর বিভিন্ন বয়সী মানুষ এতে অংশ নেন। ধর্মীয় প্রতীক, সাজসজ্জা, কীর্তন ও নানা সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় শোভাযাত্রা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।
এদিকে জন্মাষ্টমীকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবটি নির্বিঘ্নে পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিকে ঘিরে আজকের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির চেতনা ধারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
