দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর মধ্যাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা যায়। একই সময় পূর্ব ও পশ্চিম তেহরানেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা দেশজুড়ে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করছে ইরানপন্থী বিভিন্ন মাধ্যম। এর ফলে সংঘাত রাজধানীর বাইরে একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাস শহরে একটি রাষ্ট্রীয় রেডিও সম্প্রচারকেন্দ্রে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং’ (আইআরআইবি)। সংস্থাটি জানায়, পারস্য উপসাগরীয় সম্প্রচার কেন্দ্রের একটি এএম ট্রান্সমিটার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
এছাড়া খোররামাবাদ ও উর্মিয়া শহরের আবাসিক এলাকায় হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ইসফাহান, কারাজ এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আহভাজে একটি হাসপাতাল হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৮০ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে হাসপাতাল, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানবিক সহায়তা সংস্থার স্থাপনাও রয়েছে।
অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকা থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যেতে দেখা গেছে এবং উপকূলীয় শহর নেতানিয়ার আকাশে রকেট বিস্ফোরণের আলোকচ্ছটা দেখা যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার উদ্বেগও বাড়িয়ে তুলেছে।
