দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রমজান শুরুর আগে বাংলাদেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে চাল ডাল ছোলা খেজুর চিনি সয়াবিন তেলের মজুত পর্যাপ্ত ছিল এবং আমদানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম বা একই রকম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ খেজুরের দাম গত রমজানের চেয়ে কম। দশ কেজি জাহিদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে এক হাজার আটশ থেকে এক হাজার নয়শ টাকায়। চিনির দামও কম। সয়াবিন তেলের খোলা দাম লিটারে একশ সত্তর টাকার আশেপাশে। চালের কিছু প্রকারভেদে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
রমজান শুরু হতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রথম দিন থেকে লেবু শসা বেগুনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। লেবুর হালি একশ থেকে একশ বিশ টাকায় উঠেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে দুইশ থেকে দুইশ দশ টাকা। গরু মাংস সাতশ পঞ্চাশ থেকে আটশ টাকা। মাছের দামও কেজিতে বিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা বেড়েছে। সবজির বাজার মিশ্র। কিছু সবজি স্থিতিশীল থাকলেও ইফতারের চাহিদার কারণে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে।
টিসিবির স্মার্ট কার্ডধারী প্রায় ছয় লাখ ষাট হাজার পরিবার স্বস্তি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে ট্রাক সেল শুরু হয়েছে। সয়াবিন তেল লিটারে একশ পনের টাকা। চিনি কেজিতে আশি টাকা। ডাল সত্তর টাকা। ছোলা ষাট টাকা। খেজুর একশ ষাট টাকা কেজি। কার্ডধারীরা বলছেন এই সাবসিডি তাদের বড় সাহায্য করছে। তবে ট্রাকে লম্বা লাইন পড়ে যাচ্ছে। অনেক নারী সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থেকে পণ্য কিনছেন।
সরকার বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রমজানে অতিরিক্ত দাম না নিতে। প্রধানমন্ত্রীও সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন মনিটরিং শুধু রমজানকেন্দ্রিক। দীর্ঘমেয়াদি তদারকির অভাবে বাজারে অস্থিরতা থেকেই যাচ্ছে। উচ্চ আমদানি সত্ত্বেও কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে।
সার্বিকভাবে রমজানের বাজার দেখিয়ে দিচ্ছে যে সরকারি উদ্যোগ আছে কিন্তু বাস্তবায়ন আরও জোরালো করা দরকার। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য টিসিবি সাহায্য করলেও সাধারণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
