দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সরকারি অডিট রিপোর্টে আবারও সামনে এসেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’। ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি অডিট প্রতিবেদনের সঙ্গে এই দুর্নীতির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম এ রিপোর্ট পেশ করেন। প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট রিপোর্টের মধ্যেই ‘বালিশ কাণ্ড’-এর তদন্ত প্রতিবেদন স্থান পেয়েছে।
২০১৯ সালে রূপপুর প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের জন্য আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের অভিযোগে এ কাণ্ডটি সামনে আসে। অডিট তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বালিশের দাম ধরা হয় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ভবনের কক্ষে তোলার খরচ দেখানো হয় ৭৬০ টাকা করে। শুধু বালিশ নয়, কমফোর্টার ও বিছানার চাদরসহ অন্যান্য সামগ্রীতেও বাজারদরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দাম দেখানো হয়েছে।
প্রকল্পটির আবাসিক ভবনের জন্য মোট ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা বেশি দামে পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের চিত্র অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, অস্বাভাবিক দামের বিষয়টি দেখে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, এমন দামি বালিশ জাদুঘরে রাখার মতো।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো এই দুর্নীতির বিষয়টি আবার সামনে আসা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রশ্নকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
