দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জেলার চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে গত কয়েক দিনে যমুনার পানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত তিন দিনে কাজীপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতা প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বর্তমানে কাজীপুর পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার প্রায় ৩ দশমিক ২ মিটার এবং সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন হার্ড পয়েন্টে ২ দশমিক ৬৫ মিটার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাউবোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি বাড়লেও তাৎক্ষণিক বন্যার ঝুঁকি নেই। তবে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের চাপ আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকা। পাউবোর হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১২০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকটি বসতঘর এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি যমুনার ভাঙনে হারিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙনের গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে অনেক পরিবার ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পায়নি। নদীগর্ভে বসতভিটা হারিয়ে অনেকেই এখন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে রয়েছেন।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা জানান, একদিনের ব্যবধানে তাঁর ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাননি তিনি।
পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, চর সলিমাবাদ এলাকায় নতুন একটি চর জেগে ওঠায় নদীর মূল স্রোত পরিবর্তিত হয়ে সরাসরি তীরবর্তী এলাকায় আঘাত করছে। এর ফলেই ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কর্মকর্তাদের আশা, এই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ভাঙনের অগ্রগতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা ভাঙনরোধে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে যমুনার পানি ওঠানামা এবং স্রোতের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে চরাঞ্চলগুলো সবসময় ঝুঁকিতে থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
