দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ এর পদত্যাগের পর এবার সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ালেন শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী। সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পোস্টে তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালীন অভিজ্ঞতা, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের পরিবেশ এবং সাম্প্রতিক সময়ের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
শেহরীন মোনামি লেখেন, শিক্ষকতা জীবনের শুরু থেকেই প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস, জগন্নাথ উনিভার্সিটি এবং পরে ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা তে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক পদে আসার কথা কখনো ভাবেননি। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের অনুরোধে দায়িত্ব নিতে রাজি হন।
তার ভাষায়, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষাই তাকে দায়িত্ব নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি লিখেছেন, “নিজের দেশ ও নিজের আলমা মেটারের জন্য ভালো কিছু করতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়।”
সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, গত দুই বছরে তিনি শিখেছেন কীভাবে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হয় এবং উত্তপ্ত পরিবেশেও সংযম বজায় রাখতে হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ ও সহনশীলতার বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন এবং তার পরবর্তী সময়কে নিজের দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন শেহরীন মোনামি। তার মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম অতীতে এমন জটিল ও অস্থির পরিস্থিতির মুখোমুখি খুব কমই হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। কয়েক মাস ধরে ক্যাম্পাস রাজনীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভিন্ন মহলে মতভেদ দেখা গেছে। এর মধ্যেই প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন সহকারী প্রক্টর নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খুব দ্রুতই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেও পড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
