লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশিত: 03 সেপ্টেম্বর 2026

35 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের আত্মসমর্পণের জন্য জাতীয় পর্যায়ের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, প্রসিকিউশনের আবেদনের পর তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পলাতক আসামিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হলে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে আদালতের কার্যক্রমে উঠে এসেছে।

মামলায় পলাতক আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ রয়েছেন। আরও রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মৃণাল কান্তি দাস ও ওমর ফারুক চৌধুরীসহ সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিন মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, শামসুল হক টুকু ও আবদুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, সাবেক উপমহাপরিদর্শক আবদুল জলিল মণ্ডল, লেখক শাহরিয়ার কবির এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু রয়েছেন। সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে অসুস্থতার কারণে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

এর আগে গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় দুটি প্রধান অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের হিসাবে ওই রাতে শাপলা চত্বরে ৩২ জন নিহত হন। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তদন্তে শাপলা চত্বরকেন্দ্রিক ৫ ও ৬ মে’র সহিংসতায় মোট ৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য শনাক্ত হয়েছে বলে চলতি বছরের মে মাসে প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন। তদন্তে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগের পটভূমি ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকামুখী কর্মসূচি। ওই রাতে শাপলা চত্বরে বিপুলসংখ্যক সমর্থক অবস্থান নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। ঘটনাটি নিয়ে শুরু থেকেই নিহতের সংখ্যা ও অভিযান পরিচালনার ধরন নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১৩ সালের অনুসন্ধানে ৫ ও ৬ মে মিলিয়ে অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গিয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত ও বেআইনি শক্তি ব্যবহারের অভিযোগের কথা বলা হয়েছিল।

বর্তমান মামলায় প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে, তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। এসব অভিযোগ এখনো বিচারাধীন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। পলাতক ৩০ আসামিকে ওই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশের মধ্য দিয়ে তাদের আদালতের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24casibomselcuksportstaraftarium24selcuksportscasibom