লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শেখ রেহানা নয়, হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব শেখ সেলিমের

প্রকাশিত: 07 সেপ্টেম্বর 2026

28 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

শেখ হাসিনা দেশে না থাকলে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব শেখ ফজলুল করিম সেলিম পালন করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁর সক্রিয়ভাবে দলের নেতৃত্বে আসার বিষয়টি বিবেচনায় নেই।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারের সঙ্গে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের পাশাপাশি তাঁর দেশে ফেরার পরিকল্পনা, নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ সেলিম বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য আলাদা কোনো নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দলীয় কাঠামোতেই সভাপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

সাক্ষাৎকারে শেখ রেহানার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। এরপরই দলের সাংগঠনিক দায়িত্বের প্রশ্নে শেখ সেলিমের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ সেলিম আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং দলটির নিবন্ধনও স্থগিত রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। শেখ হাসিনা ওই বিচার ও রায়কে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আবারও জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান। এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। আগস্টে দেওয়া এক বক্তব্যেও তিনি ডিসেম্বরকে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাঁর ওপর হামলা হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁর দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি দেশে উগ্রপন্থী শক্তির উত্থানের অভিযোগ করেন এবং এর প্রভাব প্রতিবেশী দেশ ভারতেও পড়তে পারে বলে দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দলটি সাংগঠনিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। ফলে শেখ সেলিমকে অনুপস্থিতিতে সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করার বক্তব্যটি দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বাস্তবে এই দায়িত্ব কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে দলীয় কাঠামো, আইনগত পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24casibomselcuksportstaraftarium24selcuksportscasibom