দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় শোকের মাতম নেমে এসেছে গোপালগঞ্জের একটি গ্রামে। নিহত মা, তার তিন শিশু কন্যা ও ভাইকে রোববার নিজ গ্রামের কবরস্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে দাফন করা হয়েছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও ক্ষোভ।
রোববার সকাল ১১টার দিকে Gopalganj সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী মাদরাসা মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তর চরপাড়া কবরস্থানে সারিবদ্ধভাবে পাঁচটি কবরে তাদের দাফন করা হয়। নিহতরা হলেন শারমিন আক্তার, তার তিন মেয়ে মীম, হাবিবা ও ফারিয়া এবং শারমিনের ভাই রসুল মোল্লা।
স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। ভোরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগেও বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করা শিশুদের এমন নির্মম পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার ভোরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধ, নির্যাতন ও যৌতুকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহত শারমিনের পরিবার দাবি করেছে, তার স্বামী ফোরকান মোল্লাই এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত এবং তার সঙ্গে অন্য কেউও জড়িত থাকতে পারে।
নিহতদের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হতো। আমরা সন্দেহ করছি পরিকল্পিতভাবেই ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সবাইকে হত্যা করা হয়েছে।”
নিহত শারমিনের মা ফিরোজা বেগম সন্তান ও নাতনিদের হারিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলেও তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারিবারিক সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা উল্লেখ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌতুক, মাদকাসক্তি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও মানসিক সহিংসতা অনেক সময় ভয়াবহ অপরাধে রূপ নেয়। তারা বলছেন, প্রতিরোধমূলক সামাজিক উদ্যোগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা থামানো কঠিন হবে।
