লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

দেশে প্রথমবার ডেঙ্গু ও জলাতঙ্কের টিকা উৎপাদনে যাচ্ছে ইডিসিএল, অ্যান্টিভেনম ও হামের টিকাও তৈরিতে সরকারি উদ্যোগ

প্রকাশিত: 10 মে 2026

78 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানী লিমিটেড (EDCL)। স্বাস্থ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিদেশ নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশের টিকার বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা BSS কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আঃ সামাদ মৃধা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্ক ও সাপের কামড়জনিত ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তার ভাষায়, “আগামী এক বছরের মধ্যে চার ধরনের টিকার উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। আশা করছি আগামী বছরের জুনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করে সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”

ইডিসিএল জানিয়েছে, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রাথমিক পর্যায়ের উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা হবে। এ জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে এক কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এই চার ধরনের টিকার মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত টিকার তুলনায় প্রায় অর্ধেক খরচে সরবরাহ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ৯ মে পর্যন্ত প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং কিছু অঞ্চলে টিকা কাভারেজ কমে যাওয়াই এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

অন্যদিকে দেশে অ্যান্টিভেনম ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন এবং সাত হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও South Asia অঞ্চলে সাপের কামড়কে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এদিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন ও গবেষণা কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক এর অর্থায়নে নির্মিতব্য এ প্রকল্পে নতুন ভ্যাকসিন গবেষণা, বায়োটেকনোলজি পণ্য উন্নয়ন এবং জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের সুবিধা থাকবে। ২০৩২ সালের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের মহামারি ও জরুরি স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় দেশ অনেক বেশি প্রস্তুত অবস্থানে যেতে পারবে।

 

সূত্র: BSS, WHO, UNICEF,

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman