দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শালআসিম মুনির ভারতকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার জবাব হবে “অত্যন্ত বিপজ্জনক, সুদূরপ্রসারী ও বেদনাদায়ক”। দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে তার এই বক্তব্য নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘মার্কা ই হক’ এবং ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’ এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বদর সিধু এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নাভীদ আশরাফ ও ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ সেনাসদস্যদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে বক্তব্যে আসিম মুনির দাবি করেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয় বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার একটি বৃহৎ কৌশলের অংশ।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বলেন, “পাকিস্তানকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার যে প্রচেষ্টা চলছে তা কখনো সফল হবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যু, সীমান্ত সংঘর্ষ এবং পানিবণ্টন প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দাড় ও সতর্ক করে বলেছিলেন, ভারত যদি পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে তাহলে ইসলামাবাদ সেটিকে “যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য” হিসেবে বিবেচনা করবে।
ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আসিম মুনিরের বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থান তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে এমন উত্তপ্ত বক্তব্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে তা শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয় বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: Reuters, Al Jazeera, Dawn
