দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিচার প্রক্রিয়ায় আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হচ্ছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, শুনানির শুরুতেই মামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করা হবে। এরপর এক নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এই মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আজকের দিনটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগটি ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ের একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার দায় তার ওপর আনা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়কালে আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ আদালত আমলে নেন। এরপর ২৩ ডিসেম্বর তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন আলোচিত এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
