দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি জানিয়েছেন, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে তেহরান।
শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক কৌশল শুধু পাল্টা হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এমন প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সাহস না পায়। তার ভাষায়, সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় সংঘাত শুরু হোক এমন পরিস্থিতি ইরান চায় না; বরং স্থায়ীভাবে নিরাপত্তা হুমকি দূর করাই তাদের লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার অভিযোগ ওঠার পর থেকে ইরান নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব হামলায় ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
ইরান আরও জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে। এই জলপথকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য সীমিত করা হয়েছে বলে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। বিশ্বে জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে হওয়ায় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জলপথটি সচল রাখতে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন চাইছে বলে জানা গেছে। তবে শেখারচির দাবি, অনেক দেশ সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততায় অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
ইরানি এই কর্মকর্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগও তোলেন। সম্ভাব্য স্থল অভিযানের হুমকির জবাবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘কৌশলগত ভুল’ হলে তার কঠোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।
সূত্র: প্রেস টিভি,
