লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ভূপাতিত মার্কিন পাইলটের কাছে পাওয়া ‘ব্লাড চিট’ আসলে কি

প্রকাশিত: 04 মার্চ 2026

110 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

কুয়েতের আকাশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনায় তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর পাইলটদের কাছে পাওয়া ‘ব্লাড চিট’ নামের বিশেষ কাপড়ের নোট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ছোট্ট কাপড়ের টুকরোতে সেলাই করে রাখা হয় একটি জরুরি বার্তা যা স্থানীয় মানুষের কাছে পাইলটের পরিচয় ও সাহায্যের আবেদন জানায়। বার্তায় লেখা থাকে “আমি আমেরিকান আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি করব না দয়া করে খাবার পানি আশ্রয় চিকিৎসা দাও এবং আমাকে আমেরিকান বা মিত্র বাহিনীর কাছে পৌঁছে দাও। আমার নাম্বার ও নাম যদি আমেরিকান সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারো তবে আমেরিকান সরকার পুরস্কার দেবে”। বার্তাটি ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, তুর্কি, ফার্সি ও কুর্দি ভাষায় লেখা যা মধ্যপ্রাচ্যের বৈচিত্র্যময় ভাষা পরিস্থিতির সঙ্গে মিলে যায়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামরিক গবেষণা সূত্র জানায়, ব্লাড চিট মূলত এমন একটি বার্তা যা পাইলটদের পোশাকে সেলাই করা থাকে। এতে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে লেখা থাকে যে পাইলট নিরীহ, তাকে খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে এবং নিরাপদ বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিতে বলা হয়। সাধারণত ইংরেজির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভাষায় বার্তাটি লেখা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় দুর্ঘটনায় পাইলট আহত বা অচেতন হয়ে পড়তে পারেন। তখন কথা না বলেও যেন স্থানীয়রা পরিস্থিতি বুঝতে পারে, সে জন্যই এই ব্যবস্থা রাখা হয়। ইংরেজি ভাষা যুক্ত থাকার কারণ হলো এটি মূল সরকারি সংস্করণ হিসেবে কাজ করে এবং মিত্র বাহিনী বা আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীদের কাছে বার্তার সত্যতা যাচাই সহজ করে।

ঐতিহাসিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীন ও হিমালয় অঞ্চলে উড়োজাহাজ ভূপাতিত হওয়ার পর মার্কিন পাইলটদের বাঁচাতে প্রথম এই পদ্ধতি চালু হয়। পরে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কুর্দি ভাষাও যুক্ত করা হয়, কারণ ওই অঞ্চলে স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ ভিন্ন ছিল।

আধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও ব্লাড চিট এখনও ব্যবহৃত হয়, কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে এটি শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করে। সামরিক সংঘাতে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার একটি নীরব কিন্তু কার্যকর মাধ্যম হিসেবেই এর গুরুত্ব আজও রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman