দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি (এইচবিজে) ২০২৬ সালের ইরান-মার্কিন-ইসরাইল সংঘাত নিয়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস) ও অনলাইন পোস্টে ছড়িয়ে পড়া এই বক্তব্যে তিনি বলেছেন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো একটি বিপজ্জনক “লুজ-লুজ” প্রক্সি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত অঞ্চলের চেয়ে বাইরের শক্তিগুলোর বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবে।
আল থানি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার অপেক্ষা করছে এবং উপসাগরীয় দেশ গুলো যুদ্ধে যুক্ত হলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে গিয়ে উভয় পক্ষকে অস্ত্র বিক্রি করে লাভবান হবে এবং ইজরাইল তার গ্রেটার ইজরাইল বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে। এটিকে তিনি পশ্চিমা “বিভাজন করে শাসন” কৌশলের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তার মতে “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামক এই সামরিক অভিযান শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানোর জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পুনর্গঠনের অংশ।
এই সতর্কবার্তা কাতারের জন্য বিশেষভাবে স্পর্শকাতর সময়ে এসেছে। ৪ মার্চ ২০২৬-এ কাতার সরকার ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে, দোহায় আবাসিক এলাকায় পড়া মিসাইলটি “দুর্ঘটনা” ছিল। কাতারের বর্তমান নেতৃত্ব ইরানের প্রতিরোধকে “বিশ্বাসঘাতকতা” বলে অভিহিত করেছে। তবু আল থানি মনে করেন উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে তা এই অঞ্চলের সম্পদ ও স্থিতিশীলতা নিঃশেষ করে দেবে।
আল থানির মতে, আরব রাষ্ট্রগুলোকে এমন যুদ্ধে অর্থায়ন ও লড়াই করতে বাধ্য করার কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে যা শেষে তাদেরকেই কৌশলগতভাবে দুর্বল করবে। তিনি “ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই” যুদ্ধের ঝুঁকি তুলে ধরে অঞ্চলে নতুন নিরপেক্ষ ব্লক গঠনের পক্ষে কথা বলেছেন।
