দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। মামলার প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এর আগে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি নরসিংদী সদর উপজেলার তরুয়া এলাকার মোল্লাবাড়ির সামনে তরুয়ার বিল থেকে উদ্ধার করে র্যাব। এ সময় মো. ফয়সালকে আটক করা হয়। আটক ফয়সাল প্রধান আসামি শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদের শ্যালকের বন্ধু বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এই মামলার সূত্রপাত হয় গত ১৪ ডিসেম্বর। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরবর্তীতে ওসমান হাদীর মৃত্যু হলে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত মামলায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম এবং আত্মগোপনে সহায়তাকারী আমিনুল ইসলাম রাজু।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, এদের মধ্যে হুমায়ুন, হাসি, সামিয়া, লিমা, সিপু ও রাজু ইতোমধ্যে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড শেষে নুরুজ্জামান নোমানীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার পেছনের পরিকল্পনা ও সহযোগী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে, যা তদন্তকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে সহায়ক হবে।
