লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমানের আবেগঘন বার্তা

প্রকাশিত: 01 জানুয়ারী 2026

27 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক ও শোকাবহ দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রীর অন্তিম বিদায় যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবার। এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোকের মধ্যেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও মানুষের সহমর্মিতার কারণে এই বিদায় পুরো জাতির সম্মিলিত শ্রদ্ধায় রূপ নিয়েছে।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, দেশনেত্রীর অন্তিম যাত্রায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শোকাবহ পরিবেশে তাঁদের মানবিক আচরণ ও পেশাদারিত্ব প্রশংসিত হয়েছে। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধৈর্য ও সততার কারণে লক্ষাধিক মানুষ নিরাপদে জানাজায় অংশ নিতে পেরেছেন।

পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাব ও এপিবিএনের পাশাপাশি ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যদের নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁদের সতর্কতায় পুরো অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ছিল।

এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, এসএসএফ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিকে দেশনেত্রীর আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রতিফলন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলা হয়, তাঁদের তোলা ছবি ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানাজা ও দাফনের খবর বিশ্বব্যাপী পৌঁছে গেছে। পাশাপাশি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি পরিবারটির জন্য বড় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

তারেক রহমানের ফেসবুকে প্রদত্ত বার্তাটি হুবহু তুলে ধরা হলো (বাংলা অংশটি )

“গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক,

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের

পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তাঁর অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

তবু, এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি।

অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে

আবেগাপ্লুত। লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে,

এবং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে; তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে:

তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহোযোগীরা

সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান, এবং আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। যেসব দেশ সমবেদনা

প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনাদের এই

সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।

শোকের এই মুহূর্তে আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি। আজ এত মানুষের ভালোবাসায়

সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।

আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তাঁর সেই দায়িত্ব

ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে

আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো

সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সেই মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাঁকে

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে।

আল্লাহ যেন আমার মা’র রূহকে শান্তি দান করেন, আর তিনি যে অসীম ভালোবাসা,

ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ আমাদের সবাইকে দিয়ে গেছেন, সেখান থেকেই আমরা

শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।”

শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই শোকের সময়ে প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষ হিসেবে যে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ সবাই দেখিয়েছেন, তা জাতির স্মৃতিতে চিরদিন সম্মানের সঙ্গে স্মরণ থাকবে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman