দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্প, বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন কৌশলগত খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। শুক্রবার ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আগ্রহের কথা জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
হাকান ফিদান জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে দেখছে দুই দেশ।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ভূমিকাকে মানবতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রায় এক দশক ধরে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের লক্ষ্যে তুরস্ক বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে তুরস্ক সমর্থন দিয়ে যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে হাকান ফিদান বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা আন্তর্জাতিক পরিসরেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, এই সংলাপ স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করবে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নির্বিঘ্ন নৌচলাচল নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলমান সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
