দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলার পর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, লেবাননে ইসরাইলের বড় ধরনের হামলার পর প্রথমে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীর হয়ে আসে এবং পরে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছিল। তবে লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরাইল হামলা চালিয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করবে ইরান।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ বলেছে, লেবাননের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়।
বুধবার লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১০ মিনিটে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়। রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা হয়, যার কিছু লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচে আদরাই দাবি করেন, হিজবুল্লাহর সদর দফতর ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে আল দুয়াইর ও হারুফ শহরেও নতুন করে ইসরাইলি হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
