লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও বাংলাদেশের কৃষি বাস্তবতা

প্রকাশিত: 27 এপ্রিল 2026

133 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে ইউরিয়ার দাম প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি পিঙ্কশিট’ অনুযায়ী, জানুয়ারিতে টনপ্রতি ইউরিয়ার দাম ছিল প্রায় ৪১৫ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭২ ডলারে। মার্চ শেষে দাম পৌঁছায় প্রায় ৭২৫ ডলারে। সর্বশেষ লেনদেনে স্পট মার্কেটে দাম ৮০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, এমনকি কিছু বাজারে ৮৫০ ডলারও ছুঁয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি ও পরিবহন সংকট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ফলে অনেক দেশ চুক্তিভিত্তিক আমদানির পরিবর্তে স্পট মার্কেটের দিকে ঝুঁকছে, যা দামের ওপর আরও চাপ তৈরি করছে।

বাংলাদেশে প্রভাব
আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চাপ অনুভব করছে। দেশে ইউরিয়ার মজুদ নিরাপদ সীমা চার লাখ টনের নিচে নেমে এসেছে। বর্তমানে মজুদ রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন।

দেশে উৎপাদনও সীমিত। নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা ছাড়া প্রায় সব কারখানাই গ্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে। ফলে চাহিদার বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) আমন মৌসুম সামনে রেখে দুই লাখ টন ইউরিয়া আমদানির উদ্যোগ নিলেও দরপত্রে পর্যাপ্ত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে সরবরাহকারীরা ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী।

কৃষিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি
বাংলাদেশে বছরে ইউরিয়ার চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ টন। সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত না হলে জুন-জুলাইয়ের আমন মৌসুমে ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, সার সংকট হলে শুধু উৎপাদনই নয়, খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে।

সমাধানের পথ কী ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি—

  • দেশীয় কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা
  • গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো
  • বিকল্প উৎস থেকে জিটুজি ভিত্তিতে আমদানি
  • দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমানো

সরকার ইতোমধ্যে ঘোড়াশাল-পলাশের পাশাপাশি কাফকো ও শাহজালাল সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

ইউরিয়ার দাম বৃদ্ধি শুধু একটি বাজারগত বিষয় নয়, এটি সরাসরি খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি যত দীর্ঘ হবে, ততই কৃষিনির্ভর দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি বাড়বে। বাংলাদেশ যদি দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে না পারে, তাহলে সামনে খাদ্য নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

সূত্র: বিশ্বব্যাংক, বিসিআইসি

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24selcuksportstaraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24taraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24selcuksportscanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçcanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izle