দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনই সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দেশের মানুষের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাবে। তিনি দাবি করেন, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে।
শনিবার সকালে কক্সবাজারের পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি। তার ভাষ্য, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, লবণসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্যের ওপর আরোপিত কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা।
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা এই বাজেটকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যে বাজেটে কর কমানো হয়েছে এবং মদ ও সিগারেটের মতো পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে, সেই বাজেটেরও বিরোধিতা কেন করা হচ্ছে।
সমাবেশে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যে বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও তাদের পছন্দ নয়। তাহলে তাদের উদ্দেশ্য কী, সেটি জনগণ বুঝতে পারছে।”
সরকারপ্রধানের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ এবং দেশের অগ্রগতির সঙ্গে জনগণের ভবিষ্যৎ জড়িত। তিনি বলেন, “এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। দেশকে গড়তে পারলে আমরাই ভালো থাকব, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবন পাবে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু জনগণ। দলের সব রাজনৈতিক শক্তির উৎস জনগণ এবং সরকার দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আহমদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, লুৎফুর রহমান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদ।
সূত্র: বাসস
