দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেখতে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হলেও পেশায় তিনি একজন সিরিয়াল কিলার। সাভারে দুই নারীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আটক কথিত মশিউর রহমান খান সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এর আগে ঘটে যাওয়া তিনটি হত্যাকাণ্ড এবং সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধকে হত্যার সঙ্গেও সম্রাটের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার ১৮ জানুয়ারি পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে আরও দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, নিচতলায় ঘুমন্ত অবস্থায় ভুক্তভোগীদের শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ দোতলায় নিয়ে যান তিনি।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আরাফাতুল ইসলাম সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত পাঁচ মাসে একই কমিউনিটি সেন্টার থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার পর সম্রাটকে আটক করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্রাট দীর্ঘদিন নিজেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। তবে তার আচরণে সুস্থ মানুষের লক্ষণ পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর অধিকাংশের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি।
এ ঘটনায় কমিউনিটি সেন্টারের নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবঘুরে ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
