দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জুলাই গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে শহীদ পরিবার, ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের পক্ষ থেকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিপুলসংখ্যক মামলা জমা হলেও তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুইটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৭০টির বেশি মামলা ও অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, একটি মামলায় যুক্তিতর্কের পর্যায় শুরু হওয়ার অপেক্ষা, তিনটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ এবং আরও তিনটি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে। পাশাপাশি প্রায় ৪৫টি মামলা এখনো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যন্ত চারটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের একাধিক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক মামলা, সীমিত জনবল, পর্যাপ্ত কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তার অভাব এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে বিচারকাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
জুলাই গণহত্যার পাশাপাশি গুম, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাতেও অগ্রগতি ধীর। ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, গুমসংক্রান্ত একাধিক মামলায় কয়েক মাসে হাতে গোনা কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে শতাধিক মানুষের গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা আলোচিত মামলাগুলোতেও।
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরা, ফার্মগেট, সাভার, নরসিংদী এবং চট্টগ্রামে সংঘটিত আলোচিত ঘটনাগুলোর কয়েকটির তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা হয়নি।
শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম বলেন, দুই বছর পার হলেও তাঁর ছেলের হত্যার বিচার শুরু হয়নি। তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। একইভাবে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বড় ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত বলেন, প্রয়োজনীয় ভিডিও, নথি ও অন্যান্য প্রমাণ জমা দেওয়ার পরও বিচার শুরু না হওয়ায় পরিবার হতাশ।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, একাধিক মামলায় বিপুলসংখ্যক আসামি থাকায় প্রত্যেক সাক্ষীকে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করতে হচ্ছে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগছে। তিনি জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন মামলাও বিচার পর্যায়ে আনা হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো, তদন্ত সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জরুরি।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের প্রতি জুলাই গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুমের শিকার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমানও ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়িয়ে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ন্যায়বিচারের প্রতি জনসাধারণের আস্থা অটুট রাখতে বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আমার দেশ
