দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত বিশাল সরকারপন্থী সমাবেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ইরানের বিরুদ্ধে সহিংস যুদ্ধ শুরু করেছে, যারা নিজেদের দেশের চেয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই বেশি আগ্রহী।
তেহরানের সমাবেশে কালিবাফ বলেন, রাষ্ট্রহীন ও ধর্মবিরোধী আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ভাড়াটে যোদ্ধারা ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী অভিযান চালাচ্ছে। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা ইমাম হুসাইনের জাতি। আমরা অপেক্ষায় আছি, আমরা প্রস্তুত। সামনে এলে দেখবেন, এই অঞ্চলে আপনাদের সব সম্পদ কীভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ এবং সেনাদের কী পরিণতি হয়, তা চোখে দেখবেন।”
এনকেলাব স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, হাজার হাজার মানুষের এই জমায়েতে প্রেসিডেন্ট সরকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করেন।
এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের কাছে বিদেশি প্রশিক্ষকদের পাঠানো ভয়েস মেসেজ ইরানের হাতে রয়েছে। ওই বার্তাগুলোতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং পুলিশ না থাকলে সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। আরাঘচির ভাষায়, লক্ষ্য একটাই—রক্তপাত বাড়ানো এবং যত বেশি সম্ভব হতাহতের ঘটনা ঘটানো।
সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা গেছে। একই সঙ্গে তাসনিম প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সমাবেশে অংশগ্রহণের দৃশ্য।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পুরোনো হিসাব চুকাতে প্রস্তুত তেহরান। তিনি একে সাম্প্রতিক সময়ের নজিরবিহীন সরকারপন্থী সমাবেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সর্বশেষ, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এসব সরকারপন্থী সমাবেশকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই জনসমাবেশ বিদেশি শত্রুদের সব ষড়যন্ত্র চূর্ণ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন রাজনীতিকদের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক ভাড়াটে শক্তির’ ওপর নির্ভরতা পরিহারের আহ্বান জানান।
