দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি এর ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। অপরিশোধিত তেলের সংকটের কারণে রোববার বিকেল থেকে পরিশোধন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক সূত্র জানায়, নতুন করে আমদানি করা ক্রুড তেলের চালান আগামী মে মাসের আগে দেশে পৌঁছাবে না। ফলে অন্তত ১০ মে পর্যন্ত এই ইউনিট চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই সময়ের মধ্যে রিফাইনারিতে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। এলপি গ্যাস, পেট্রোল এবং বিটুমিন উৎপাদন সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে। মূলত ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ থাকায় উৎপাদনের একটি বড় অংশ স্থবির হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বিশেষ করে ইরান সংশ্লিষ্ট সংকটের কারণে গত দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ চালান দেশে আসে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। এরপর বিকল্প উৎস হিসেবে মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং পাইপলাইনে জমে থাকা তেল এবং ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল।
তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন রিফাইনারি দৈনিক গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে। তবে সংকটের কারণে উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টনে। শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্রুড প্রসেসিং বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্র জানায়, দেশে বছরে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে এনে এই রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। বাকি চাহিদা পূরণে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করা হয়।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সরাসরি আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত থাকায় তাৎক্ষণিক সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
আপাতত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্রুড আমদানি ব্যাহত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় চাপ বাড়তে পারে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
