দ্য সিভিলিয়ানস । স্টাফ রিপোর্টার ।
একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও সহনশীল জাতি গড়ে তুলতে মাতৃ ও শিশুপুষ্টির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের হাজারো মা ও শিশুর কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিসেবা পৌঁছে দিতে হলে সরকার, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বুধবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেছে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে ‘ট্রান্সফর্মিং লাইভস থ্রু নিউট্রিশন’ প্রকল্পের অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষাগুলো তুলে ধরা হয়।
প্রকল্পটি একটি বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ, যা বিশ্বের ১২টি দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে অর্থায়ন করছে দ্য চার্চ অব জিজাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার ডে সেইন্টস এবং বাস্তবায়নে রয়েছে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, ভিটামিন অ্যাঞ্জেলস ও আইডিই।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কেবল সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পুষ্টি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মাতৃ ও শিশুপুষ্টি উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সরকার খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপুষ্টি দ্রুত শনাক্ত করা, সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশুদের জন্য সম্প্রদায়ভিত্তিক পুষ্টিসেবা সম্প্রসারণ এবং কার্যকর পুষ্টি তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে হবে।
হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর পূজা পান্ডে রানা বলেন, প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরাই তাদের কাজের শেষ ধাপ নয়। বরং অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুদের কাছে পৌঁছাতে এবং জাতীয় পর্যায়ে পুষ্টি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের মতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য একটি সুস্থ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুপুষ্টি, অপুষ্টি, জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবা, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, পুষ্টি কর্মসূচি, বাংলাদেশ, স্বাস্থ্যনীতি, উন্নয়ন সহযোগিতা, #মাতৃপুষ্টি #শিশুপুষ্টি #জনস্বাস্থ্য #বাংলাদেশ #স্বাস্থ্যসেবা #পুষ্টিনিরাপত্তা #দ্যসিভিলিয়ানস
