লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

মোহাম্মদপুরে তিন দিনের ব্যবধানে দুই খুন: সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসছে অপরাধীরা

প্রকাশিত: 17 এপ্রিল 2026

12 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুটি খুনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার দিনদুপুরে কিশোর গ্যাং নেতা ইমন হোসেন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যার পর বুধবার রাতে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল নামে আরেক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

আসাদুল তার নিজ দলের সহযোগীদের হাতেই প্রাণ হারিয়েছেন। মাদক কারবার ও টাকার লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাদেক খানের ইটখোলা এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে যাওয়ার সময় আসাদুলের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ওত পেতে থাকা সহযোগীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ইমন হত্যা প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে আলেক্স ইমন খুন হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, এক যুবক আসাদুলের কাঁধে হাত দিয়ে গলির মাথায় নিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে আসা আরেকজন চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। আশপাশের আরও কয়েকজন যুবক এতে যোগ দেয়। নিহত আসাদুল মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ে থাকতেন। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চার থেকে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন পুলিশি তৎপরতা আছে, কিন্তু রাতে উল্লেখযোগ্য পাহারার ব্যবস্থা নেই, পুলিশ গ্রেফতারও করছে কিশোর গ্যাং এর অনেককেই কিন্তু তারা জামিনে খুব সহজেই আবার বেরিয়ে আসছে, এর ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। নিহত আসাদুলের মামাতো ভাই রিয়াজ হোসেন জানান তার বাসা খুনের জায়গা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে। এলেক্স ইমন খুনের পরও রাতে পাহারা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।

পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন আসাদুল খুচরা মাদকের কারবার করতেন এবং নিজ দলের মধ্যেই বিরোধের জেরে তিনি খুন হয়েছেন। হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে ইমন হত্যা মামলায় ছয় আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে গ্রেপ্তারের কিছুদিন পরই অনেক অপরাধী জামিনে বেরিয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকা থেকে দুই হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরও চুরি ছিনতাই ও খুনের ঘটনা থামছে না।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন কোনো একটি গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করলে তাদের কর্মকাণ্ড কমে যায় কিন্তু নতুন নামে আরেকটি গ্রুপ মাথাচাড়া দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে।

মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট বাড়ার অন্যতম কারণ হলো অপরাধীদের সহজে জামিন পাওয়া। গ্রেপ্তারের পর কয়েকদিনের মধ্যেই তারা বেরিয়ে এসে আবার মাদক চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে জড়িয়ে পড়ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হচ্ছে। জামিন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা আনা এবং পুনরায় অপরাধে জড়ালে দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এলাকায় শান্তি ফেরানো কঠিন হয়ে পড়বে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman