দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি কার্যত ‘অকেজো’ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এ নিয়ে প্রথম বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, যেখানে বলা হয়, কিছু স্থাপনা এখন প্রায় বসবাসের অযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের আঘাতে অন্তত এক ডজন ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
মার্ক লিঞ্চ, যিনি জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি এর ‘প্রজেক্ট অন মিডল ইস্ট পলিটিক্যাল সায়েন্স’-এর পরিচালক, বলেন, “এই ঘাঁটিগুলো ছিল আমেরিকার আঞ্চলিক প্রভাবের মূল ভিত্তি, যা ইরান অল্প সময়েই কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে।”
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনের নেভাল সাপোর্ট একটিভিটি বাহরাইন এ মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থান করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘাঁটি এখন কৌশলগত সুবিধার চেয়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলোও ক্রমে বুঝতে পারছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছত্রছায়া তাদের জন্য আগের মতো কার্যকর নয়।
শানা আর মার্শাল, ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজ এর সহযোগী পরিচালক, বলেন, “এই ধরনের সম্পর্ক যখন একপাক্ষিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়, তখন তা টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।”
এদিকে ত্রিতা পারসি,কুইন্সি ইনস্টিটিউট এর নির্বাহী সহ-সভাপতি, মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন নিরাপত্তার জন্য নতুন বিকল্প খুঁজতে পারে, এমনকি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার দিকেও ঝুঁকতে পারে।
ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলে যেতে পারে এবং নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
