দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইসলামাবাদে ব্যর্থ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ পরিত্যাগ করে এবং ইরানের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলেই একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি ইরানি প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিশেষভাবে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপ দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা চলার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। তবে আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। উভয় পক্ষই পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এর সঙ্গে বিরোধ চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টানা ২১ দিনের সংলাপও ব্যর্থ হয়। এরপর সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন গতি পায়। সেই ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা সরাসরি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হলেও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল বিরোধের কেন্দ্রেই রয়ে গেছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্ন। এসব ইস্যুতে বড় ধরনের ছাড় ছাড়া সমঝোতা কঠিন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে একদিকে কড়া অবস্থান, অন্যদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত রয়েছে। এতে বোঝা যায়, কূটনৈতিক চাপ বজায় রেখেই ইরান দরকষাকষির কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
