দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহ করা শাকসবজি বিক্রির আগে সড়কের পাশে জমে থাকা নোংরা পানিতে ধুয়ে নিচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা। রাজধানীর ডেমরার ধার্মিকপাড়া এলাকায় এমন দৃশ্য নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এতে শাকসবজির সঙ্গে ক্ষতিকর জীবাণু ও রাসায়নিক পদার্থ মিশে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজার থেকে শাক কিনে এনে বিক্রেতারা সড়কের পাশে জমে থাকা পানিতে তা ধুয়ে নেন। পরে এসব শাক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণভাবে বিক্রি করা হয়। ক্রেতারা অনেক সময় এসব শাক ভালোভাবে না ধুয়েই রান্নায় ব্যবহার করেন।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যে পানিতে শাক ধোয়া হচ্ছে তা স্বাভাবিক বৃষ্টির পানি বা পরিষ্কার পানির উৎস নয়। ধার্মিকপাড়া এলাকার ওই স্থানের সঙ্গে মাতুয়াইল বর্জ্য শোধন কেন্দ্রের সংযোগ থাকায় সেখানে জমে থাকা পানিতে বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থ মিশে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্জ্য ও নোংরা পানির সংস্পর্শে থাকা শাকসবজিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী এবং বিভিন্ন রাসায়নিক দূষক লেগে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পানি দিয়ে দ্রুত ধুয়ে নিলেই সব ধরনের জীবাণু বা রাসায়নিক দূষণ দূর করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে অপরিশোধিত বা দূষিত পানিতে শাক ধোয়ার ফলে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রাজধানীতে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ থাকলেও মাঠপর্যায়ে শাকসবজি পরিষ্কার করার এমন অনিরাপদ পদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। নিম্ন আয়ের মানুষের বড় একটি অংশ এসব ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার কাছ থেকে শাকসবজি কিনে থাকেন। ফলে দূষিত পানিতে ধোয়া শাক দ্রুত বিভিন্ন এলাকার ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত শাকসবজি ধোয়ার জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা এবং জনবহুল এলাকায় এমন অনিরাপদ পদ্ধতিতে খাদ্যপণ্য পরিষ্কার করা বন্ধে কার্যকর নজরদারি চালানো। একই সঙ্গে বিক্রেতাদের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন।
ভোক্তাদেরও সতর্ক থাকা জরুরি। বাজার থেকে শাকসবজি কেনার পর পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করা উচিত। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, খাদ্যপণ্য বিক্রির আগেই নিরাপদ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করা। কারণ ভোক্তার ঘরে পৌঁছানোর আগেই যদি খাদ্য দূষিত হয়ে যায়, পরে তা পরিষ্কার করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দূষিত পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ও পরিষ্কারের অনিরাপদ পদ্ধতি একসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। তাই ডেমরার ধার্মিকপাড়ার মতো স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপদ পানি ব্যবহারের ব্যবস্থা করা জরুরি।
