লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ভোজিনহা: কেপ ভার্দের প্রাচীর হয়ে ওঠা এক গোলরক্ষকের গল্প

প্রকাশিত: 04 জুলাই 2026

18 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

স্কোরবোর্ডে আর্জেন্টিনার নাম উঠেছে ঠিকই, কিন্তু আজকের রাতে আসল আলোচনার জায়গাটা দখল করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। প্রথমবার বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া একটা দল কীভাবে গোটা দুনিয়ার নজর কাড়তে পারে, সেটার প্রমাণ দিয়েছে তারা। আর এই দলের সবচেয়ে আলোচিত মুখ গোলরক্ষক ভোজিনহা, আসল নাম জোসিমার জোসে ইভোরা ডিয়াস। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো, কেন তাঁর গল্পটা এত মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে।

চল্লিশ বছর বয়সে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা কোনো সাধারণ ঘটনা না। বেশিরভাগ ফুটবলার এই বয়সে খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেন, সেখানে ভোজিনহা এই বয়সেই প্রথমবার বিশ্ব মঞ্চে দাঁড়ালেন। অথচ তাঁর ক্যারিয়ারই ঠিকমতো গতি পায়নি পঁচিশ বছর বয়সের আগে।

জার্সিতে লেখা “Vozinha” নামটা তাঁর নিজের বেছে নেওয়া, যে দাদা-দাদি তাঁকে বড় করেছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। মা কাজের জন্য বাইরে থাকতেন, বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীতে, তাই ছোটবেলার একটা বড় অংশ কেটেছে দাদা-দাদির কাছে। বাংলায় বললে, ভোজিনহা মানে দাঁড়ায় ছোট্ট দাদি।

পেশাদার ফুটবলার হওয়ার আগে সংসার চালাতে তিনি কাজ করেছেন ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে, চালিয়েছেন বাসও। পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত ফুটবল থেকে জীবিকা চালানোর সুযোগই হয়নি তাঁর। এখন যাঁকে দেখে গোটা বিশ্ব মুগ্ধ, তাঁর শুরুটা ছিল একেবারে সাধারণ একজন কর্মজীবী মানুষের মতো।

ছোটবেলায় উচ্চতা কম থাকায় বহু কোচ তাঁকে দলে নেননি। পরে হঠাৎ করেই লম্বা হয়ে যান, উচ্চতা দাঁড়ায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চিতে। এই শারীরিক পরিবর্তনই আসলে খুলে দেয় তাঁর জন্য ফুটবলে ফেরার পথ।

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর সাক্ষাৎকারে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। জানান, ভিসার খরচ জোগাড় করতে না পারায় তাঁর মা বিশ্বকাপ দেখতে আসতে পারেননি। কথাটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, আলোচনা হয় ব্যাপকভাবে। শেষ পর্যন্ত ছেলের বিশ্বকাপ যাত্রা নিজের চোখে দেখতে চলে আসেন তাঁর মা।

স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মাত্র নব্বই মিনিটের মধ্যে তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ হাজার থেকে বেড়ে ষাট লাখ ছাড়িয়ে যায়। এমন আকস্মিক জনপ্রিয়তা প্রথমে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি।

এত কিছুর পরও ভোজিনহা রয়ে গেছেন একেবারে সাদামাটা ও বিনয়ী একজন মানুষ। তাঁর গল্পটা মূলত একটা বার্তা বহন করে, ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণের জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। বিশ্বাসটা ধরে রাখতে পারলে দেরি বলে আসলে কিছু নেই।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman