দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। তবে কিছু নির্দিষ্ট দেশের জাহাজকে শর্তসাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রণালিটি কার্যত বন্ধ ঘোষণা করলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানায়, পাকিস্তানের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ সম্প্রতি ইরানের অনুমতি নিয়ে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করেছে। একইভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বহনকারী অন্তত দুটি ভারতীয় জাহাজও পারস্য উপসাগর থেকে নিরাপদে বের হতে পেরেছে। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, জ্বালানি সরবরাহ বিবেচনায় ভারতীয় জাহাজকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজকেও পূর্ব অনুমতির ভিত্তিতে প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
অন্যদিকে চীন তাদের তেল ও এলএনজি পরিবহন অব্যাহত রাখতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স ও ইতালিও নিজেদের জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের প্রস্তাব দিলেও ইউরোপের কয়েকটি দেশ সামরিক সম্পৃক্ততায় অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি পূর্ণ অবরোধ না করে কৌশলগতভাবে নির্বাচিত দেশগুলোকে অনুমতি দিয়ে বৈশ্বিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি বাজারে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
